আওয়ামী লীগের সম্মেলন উদ্বোধন

584

ঢাকা অফিসঃ  আওয়ামী লীগের দুই দিনব্যাপী ২০তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন দলের লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

14825555_1127278687309081_1964228619_n

শনিবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি শান্তির প্রতীক পায়রা উড়ান।

এরপর ১০টা ১৩ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সম্মেলন উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এর পর সোয়া ১০টার দিকে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বক্তব্য দেন।

 

14793922_1127558977281052_1659222376_n

এবারের জাতীয় কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের স্লোগান হচ্ছে, ‘উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছি দুর্বার। এখন সময় বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার’। সম্মেলনকে ঘিরে সারা দেশেই দলটির মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে ছয় হাজার ৫৭০ জন কাউন্সিলর অংশ নেবেন।

সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশন ২৩ অক্টোবর রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হবে।

সর্বশেষ কাউন্সিল অধিবেশনে নতুন কার্যনির্বাহী সংসদ নির্বাচন করা হবে। এ সময় কমিটি নির্বাচনের কার্যক্রম পরিচালনা করবে এ নির্বাচন কমিশন। তিন সদস্যের এ কমিশনের সদস্যরা হলেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, ড. মসিউর রহমান এবং সাবেক সচিব রশিদুল আলম।

উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া কূটনীতিক, রাষ্ট্রদূত, খ্যাতনামা বুদ্ধিজীবী এবং সাংবাদিকরাও আমন্ত্রণ পেয়েছেন।

অন্যদিকে ১২টি দেশের ৫৫ জন অতিথি এই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন বলে আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে। এরই মধ্য সারা দেশ থেকে কাউন্সিলরদের তালিকা এসেছে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে। ডেলিগেট কার্ড, পোস্টার, লিফলেট, ব্যানার, স্বেচ্ছাসেবক ইউনিফর্মসহ সম্মেলনের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপকরণ তৈরির কাজও শেষ। সম্মেলনের ঘোষণাপত্রও প্রস্তুত হয়েছে।

14794090_1127552413948375_300469793_n

সম্মেলন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে জেলা শহরগুলো সাজানো হয়েছে। শুধু দেশেরই নয়, প্রবাসী বাঙালিদেরও দৃষ্টি এখন আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দিকে।

অন্যদিকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি মাথায় রেখে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনকে নির্বিঘ্ন করতে ঢেলে সাজানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবক।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সম্মেলনস্থল, প্রবেশপথসহ চারপাশে দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন সম্মেলনের শৃঙ্খলা ও স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য সচিব আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। তিনি জানান, সম্মেলনে স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। তাঁরা সম্মেলনস্থল, ৭টি প্রবেশপথসহ আশপাশের এলাকায় ৫০টি ইউনিটে ভাগ হয়ে কাজ করবেন। প্রত্যেক ইউনিটে একজন টিম লিডার থাকবেন, তাঁরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে দেখা গেছে, সম্মেলন স্থলে চোখ ধাঁধাঁনো আলোকসজ্জার ব্যবস্থাসহ নানা রঙের ব্যানার ফেস্টুন ও পোস্টারসহ অপরূপ সাজে সাজানো হয়েছে উদ্দ্যানটি। নৌকার আঙ্গিকে তৈরি করা হয়েছে সম্মেলনের মূল মঞ্চ। এর আগে সম্মেলন উপলক্ষে রাজধানীসহ বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কের ওপরে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। এসব তোরণে বিএনপি-জামায়াতের আগুনসন্ত্রাসের বিভিন্ন আলোকচিত্র সাঁটানো হয়েছে। তা ছাড়া জঙ্গিবাদের পক্ষ অবলম্বন করে বিএনপি ও তাদের সমমনা রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্য সন্নিবেশিত থাকবে লিফলেট, ব্যানার ও পোস্টার।

সাজসজ্জা উপকমিটির সদস্য সচিব মির্জা আজম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে আওয়ামী লীগের এই সম্মেলন হবে সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ। এর মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন-অগ্রগতি এবং গৌরব বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা হবে। ঢাকা শহরসহ সারা দেশে আলোকসজ্জা শেষ হয়েছে। সরকারের উন্নয়ন-অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে সাজসজ্জায়।

14801160_1127552443948372_625237322_n

সম্মেলন উপলক্ষে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অতিথিদের হাতে দেওয়া হবে বিএনপি-জামায়াতের আগুন সন্ত্রাসের ভিডিও সিডি। সেখানে জঙ্গিবাদের পক্ষে দেওয়া তাদের বক্তব্য তুলে ধরা হবে।

ডিজিটালের ছোঁয়া লেগেছে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে : রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সাজসজ্জার সাথে সাথে ফেসবুকের প্রোফাইল ছবিতেও আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের ছাপ পড়েছে। সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই)নির্বাহী পরিচালক সাব্বির বিন সামস বলেন, ২০তম জাতীয় কাউন্সিল আওয়ামী লীগের নিজস্ব ফেসবুক পেজে থেকে সরাসরি ফেসবুকে লাইভ প্রচার করা হবে। ফেসবু‡ক সম্মেলন সরাসরি দেখতে এ লিংকে ক্লিক করতে হবে https:/ww/w.facebook.com/events/190591254683432/ ।

২২ ও ২৩ অক্টোবরের সম্মেলনে ৫০ হাজার কাউন্সিলর ও ডেলিগেট বসার ব্যবস্থা থাকবে। তাদের সুবিধার্থে ১০টি বড় পর্দায় সম্মেলন দেখানো হবে।

এ ছাড়া অনলাইনে অংশগ্রহণ এবং সমর্থন জানানোর জন্য http://badge.albd.org লিঙ্ক এ গেলে ফেসবুক ফটোতে ব্যাজটি সংযুক্ত করা যাবে। এরপর সেই ফটোকে করা যাবে প্রোফাইল পিকচার।

১২ দেশের ৫৫জন অতিথি আসছেন : চীন, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ভারত, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, শ্রীলংকাসহ ১২টি দেশের ৫৫ জন বিদেশি অতিথি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন। তবে এর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৭টি প্রবেশপথ করা হয়েছে। এ ছাড়া থাকছে দলের গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্রের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

১৫০/৮৪ ফুট সুবিশাল মঞ্চ তৈরি : সম্মেলনকে ঘিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মূল মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে দলীয় প্রতীক নৌকার আদলে। লম্বায় ১৫০ ফুট, চওড়ায় ৮৪ ফুট। মঞ্চের ছাদের উচ্চতা ৪২ ফুট। নির্মাণকাজে যুক্ত কর্মীরা জানান, মূল মঞ্চ হয়েছে পাঁচ স্তরের। একেবারে সামনের অংশটির উচ্চতা হবে আড়াই ফুট। যেখানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা হবে। সাত ফুট উচ্চতার স্থানটিতে দলীয়প্রধান শেখ হাসিনাসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতারা বসবেন। আর পেছনের বিভিন্ন উচ্চতার তিন সারিতে কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৫৮ জনের বসার স্থান করা হয়েছে।

মঞ্চের সামনে বিশাল প্যান্ডেল প্রস্তুত করা হয়ে গেছে। এর ভেতরে ২০ হাজার চেয়ার রাখা হয়েছে। রয়েছে ১৬টি এলইডি টেলিভিশন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে শতাধিক কারিগর মঞ্চ তৈরির কাজ করেছেন। চারুকলার প্রায় দেড় ডজন ছাত্র সুদৃশ্য এই মঞ্চ নির্মাণে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে মঞ্চটি বুঝিয়ে দিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন জন্ম হয় আওয়ামী মুসলিম লীগের। অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনার ধারাবাহিকতায় পরে ‘মুসলিম’ শব্দটি দলের নাম থেকে বাদ দেওয়া হয়। এখন ঐতিহ্যবাহী এই দলটির বয়স ৬৭ বছর। এ পর্যন্ত দলটির ১৯টি জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এর আগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ১৯তম জাতীয় সম্মেলন ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পুনর্নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.