ইমরান খানকে ছাড়িয়ে ইয়াসির শাহ

120

দুবাই টেস্টে ইয়াসির শাহর ঘূর্ণিতে ৯০ রানে অলআউট নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল। একাই ৮ উইকেট শিকার করেন পাকিস্তানের লেগ স্পিনার ইয়াসির। ৪১ রানে নিউজিল্যান্ডের ৮ উইকেট শিকারের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক ও বর্তমানে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা ইমরান খানকে ছাড়িয়ে যান ইয়াসির শাহ।

image-115803-1543251032

১৯৮২ সালে শ্রীলংকার বিপক্ষে লাহোর টেস্টে ৫৮ রানে ৮ উইকেট শিকার করেছেন ইমরান খান। একই বছর ভারতের বিপক্ষে করাচি টেস্টে ৬০ রানে ৮ উইকেট শিকার করেন ইমরান। ১৭ রান কম খরচ করে ৮ উইকেট শিকার করে ইমরান খানকে ছাড়িয়ে যান ইয়াসির।

তবে পাকিস্তানের সেরা বোলিং ফিগার আব্দুল কাদির ও সরফরাজ নেওয়াজের। কাদির ১৯৮৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লাহোর টেস্টে ৫৬ রানে ৯ উইকেট শিকার করেন। তার আগে ১৯৭৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মেলবোর্নে ৮৬ রানে ৯ উইকেট শিকার করেন নেওয়াজ।

দুবাই টেস্টে দুর্দান্ত বোলিং করা ইয়াসির শাহকে অভিনন্দন জানিয়ে পাকিস্তানের কিংবদিন্ত ক্রিকেটার মুশতাক আহমেদ বলেন, দুবাইয়ে এই মাইলফলকের জন্য ইয়াসিরকে অভিনন্দন। অভিনন্দন পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে। দুর্দান্ত খেলার জন্য।

টেস্ট ক্যারিয়ারে এত দিন ইয়াসির শাহের সেরা বোলিং ছিল ৭৬ রানে ৭ উইকেট। সোমবার দুবাই টেস্টের তৃতীয় দিনে ১২.৩ ওভারে ৪১ রানে (৩.২৮ ইকোনমি) ৮ উইকেট শিকার করেন ইয়াসির শাহ। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টেস্টে যে কোনো বোলারের এটাই সেরা বোলিং ফিগার।

এর আগে ২০১৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৩.৫ ওভারে ৪৯ রানে (৩.৫৪ ইকোনমি) ৮ উইকেট শিকার করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের লেগ স্পিনার দেবেন্দ্র বিশু। বল, রান এবং ইকোনমি হিসেবে দুবাই স্টেডিয়ামে টেস্টের সেরা বোলার ইয়াসির শাহ।

টেস্টের এক ইনিংসে প্রতিপক্ষের ১০ উইকেট শিকারের রেকর্ড আছে দুজনের। ১৯৫৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার সবকটি উইকেট শিকার করেন ইংল্যান্ডের অফ স্পিনার জিম লাকার। ১৯৯৯ সালে পাকিস্তানের ১০ উইকেট শিকার করে লাকারের সেই রেকর্ডে ভাগ বসান ভারতের সাবেক তারকা ক্রিকেটার অনিল কুম্বলে।

তবে পাকিস্তানি বোলারদের মধ্যে টেস্টের এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারের রেকর্ড আছে আব্দুল কাদিরের। তিনি মাত্র ১৩ রানে ইংল্যান্ডের ৯ উইকেট শিকার করেছিলেন। এছাড়া ৮ উইকেট শিকারের রেকর্ড আছে সরফরাজ নেওয়াজ, ইমরান খান, সিকান্দার বখত ও সাকলাইন মুশতাকের।

টেস্টে এ নিয়ে ২৫ বার ১০০ রানের নিচে অলআউট নিউজিল্যান্ড। পাকিস্তানের বিপক্ষেই এ নিয়ে ছয়বার ১০০ রানের নিচে অলআউট হওয়ার রেকর্ড আছে ব্লাকক্যাপসদের। তবে টেস্টের এক ইনিংসে নিউজিল্যান্ড সর্বনিম্ন স্কোর ২৬। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯৫৫ এমন রেকর্ড গড়ে নিউজিল্যান্ড। হারিস সোহেলের ১৪৭ ও বাবর আজমের ১২৭ রানে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেটে ৪১৮ রান নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তান।

জবাব দিতে নেমে উদ্বোধনীতে ৫০ রান করা নিউজিল্যান্ড এরপর ৪০ রানে হারায় ১০ উইকেট। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন ওপেনার জিত রাভেল। ২৮ রান করে অপরাজিত অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ২২ রান আসে ওপেনার টম লাথামের ব্যাট থেকে।

এ ছাড়া আজাজ প্যাটেল-ওয়েটলিং ৪ ও ১ রান করে করলেও রানের খাতা খোলার সুযোগ পাননি রস টেইলর, নিকোলাস, গ্রান্ডহোম, ইস সাউদি, ওয়াগনার ও ট্রেন্ট বোল্ট। পাকিস্তানের হয়ে মাত্র ১২.৩ ওভার বোলিং করে ৪১ রানে ৮ উইকেট শিকার করেন ইয়াসির শাহ। ১ উইকেট নেন হাসান আলী।

৩২৮ রানে পিছিয়ে থেকে ফলোঅন এড়াতে ব্যাটিং করছে নিউজিল্যান্ড। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে অতিথি নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১৩১ রান। এই উইকেট দুটিও তুলে নেন ইয়াসির শাহ। প্রথম ইনিংসে ৮ আর দ্বিতীয় ইনিংসের দুই। সবমিলে এক দিনে নিউজিল্যান্ডের ১০ উইকেট তুলে নেন ইয়াসির। ৪৯ ও ৪৪ রান নিয়ে অপরাজিত রস টেইলর ও টম লাথাম। ৩০ রান করে ফিরেছেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.