দিগন্ত ও ইসলামিক টিভির বিষয়ে সিদ্ধান্ত শিগগির :সংসদে ইনু                                       

372
ঢাকা অফিস:তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সংসদে জানিয়েছেন, সাময়িক স্থগিত হওয়া দিগন্ত ও ইসলামিক টেলিভিশনের সম্প্রচারের অনুমতি দেয়া হবে, না লাইসেন্স বাতিল করা হবে সে বিষয়ে খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।গত বৃহস্পতিবার বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফকরুল ইমামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী ইনু বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থান নিয়ে ‘তেতুল হুজুরের’ নেতৃত্বে নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছিল হেফাজতে ইসলাম কওমি মাদরাসাভিত্তিক সংগঠনটির ওই বিভিষিকাময় ঘটনার সময় দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টেলিভিশনে তাদের নীতিমালা বা নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ৫ ও ৬ মে এ দু’দিনের ঘটনা এমনভাবে সম্প্রচার করে যাতে তাণ্ডব ও সহিংসতাকে আরো উস্কে দিয়েছিল। এর

(জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফকরুল ইমামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা বলেন।)
(জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফকরুল ইমামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা বলেন।)

ফলে তাণ্ডবকারীরা ধ্বংসযজ্ঞে আরো বেশি করে উৎসাহিত হয়। এ সময় আমরা তা সরাসরি প্রত্যক্ষ করে তাৎক্ষণিকভাবে এ দুটি টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বাধ্য হই। এর পরে তাদেরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। তাদের দেয়া উত্তর আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি। তাদের এসব ফুটেজ ও কার্যক্রম আমরা আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। এটি এখনো চলমান। সেকারণে এ দু’টি টিভি চ্যানেলকে আবার অনুমতি দেয়া হবে না কি লাইসেন্স বাতিল করা হবে সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে খুব তাড়াতাড়ি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে নয়টি টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স দেয়া হয়। এর মধ্যে চ্যানেল ওয়ান এবং সিএসবি টিভি চ্যানেল দুটির অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াত সরকারের আমলে ২১৪টি পত্র পত্রিকারও ঘোষণাপত্র দেয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ইসলামী শাসন কায়েমের ১৩ দফা দাবি নিয়ে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানী ঘেরাও করেছিল হেফাজত কর্মীরা। পরে সেদিন তারা শাপলা চত্বরে অবস্থান নেয়। সহিংস বিক্ষোভে দিনভর ব্যাপক হাঙ্গামা হয়। হামলা হয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে, সড়ক বিভাজকের গাছ কেটে আগুন ধরিয়ে দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রে তাণ্ডব তৈরি করে হেফাজত কর্মীরা। তাদের দাবি পূরণ না হলে শাপলা চত্বর না ছাড়ার ঘোষণাও দেয় তারা।
ওই সময় পল্টন মোড় থেকে বায়তুল মোকারম মসজিদের চারপাশের রাস্তায় বিভিন্ন ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। একই সাথে সংঘর্ষ ও সহিংসতাও চলতে থাকে। পুলিশও কয়েক দফা গুলি চালায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুদ্ধক্ষেত্রে রূপ নিয়েছিল গোটা এলাকা। দিনের এসব সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন হতাহতও হয়। কুরেআন শরীফ পোড়ান হয়। ব্যাংকের এটিএম বুথ ভেঙে অর্থ লুটপাট করা ঘটনাও ঘটে। এসময় পলিশের সাথে সংঘর্ষে মারা যান বেশ কিছু মানুষ।
নারায়নগঞ্জ-২ আসনের নজরুল ইসলাম বাবুর অপর এক প্রশ্নের জবাবে ইনু বলেন, বিটিভি ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে বিঞ্জাপন ফি বাবদ ৩০ কোটি ৮৭ লাখ ৯২ হাজার সাত টাকা এবং লাইসেন্স ফি বাবদ সাত কোটি ৭১ লাখ ৩৫ হাজার ৬৯১ টাকা অর্থাৎ মোট ৩৮ কোটি ৫৯ লাখ ২৭ হাজার ৬৯৮ টাকা আয় করে। বিগত ২০১৫-২০১৬ সালে যে আয় ছিল যথাক্রমে ৪৫ কোটি ৭২ লাখ ৬৭ হাজার ৪২৭ টাকা এবং সাত কোটি ২৬ লাখ ৫৯ হাজার ১৩৭ টাকা অর্থাৎ মোট আয় ছিল ৫২ কোটি ৯৯ লাখ ২৬ হাজার ৫৬৪ টাকা।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.