নিউইয়র্কে শিক্ষিকার বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার বাংলাদেশি শিশু শেখ তাহীম

248
নিউইয়র্ক প্রতিনিধি: নিউইয়র্কে ক্লাস শিক্ষিকার বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে বাংলাদেশি মেধাবী ছাত্র শেখ তাহীমের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানুষিক বিকাশ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে|
তাহীমের পিতা নাজিম উদ্দিন শেখ জানান, গত বছর নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলের মেধা যাচাই পরীক্ষার মাধ্যমে কিন্টারগার্ডেন হতে ভর্তি পরীক্ষায় একমাত্র ছাত্র হিসেবে গিফটেড এন্ড ট্যালেন্টেড প্রোগামের আওতায় পি.এস. ১৪৯ হতে ফরেস্ট হিলের পি.এস. ২২০ এডওয়ার্ড ম্যান্ডেল স্কুলে সুযোগ পেয়ে গত সেপ্টেম্বরের ৭ তারিখ হতে যাওয়া শুরু করে|received_1501706729866273 আর এটাই বুঝি কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য| একের পর এক চলতে থাকে স্কুল শিক্ষিকা মিস জেনিফার ম্যাককেলির কেয়ারলেস বৈষম্যমূলক এবং খামখেয়ালি আচরণ | সর্বশেষ গত নভেম্বরের দুই তারিখে তার হাত ভেঙ্গে যায়| ভাঙা হাতের উপরেই জেনিফার ম্যাককেলি চাপিয়ে দেন তার ব্যক্তিগত লাইব্রেরি হতে ১৬টি বই সহ দুপুরের লাঞ্চ, খাবার পানি, ক্লাস ফোল্ডার এবং আরো অনেক কিছু ভর্তি স্কুল ব্যাগ| তাকে বাধ্যকরেন চার-পাঁচ কেজি ওজনের ব্যাগটি বয়ে নিয়ে স্কুল বাসে করে পাঁচ মাইল দূরে বাসায় ফিরতে|

তাহীমের পিতা নাজিম উদ্দিন শেখ জেনিফার ম্যাককেলির কেয়ারলেস বৈষম্যমূলক এবং খামখেয়ালি আচরণের কিছু উদাহরণ তুলে ধরে জানান:

১. একদিন আমার ছেলে স্কুল থেকে ফিরে এসে বললেন যে কেউ তাকে স্কুলে মারধর করেছে। আমরা তাকে বোঝাই স্কুলে কারো সাথে মারামারি না করতে| কেউ তাকে কিছু বললে সে যেন শিক্ষিকাকে জানায় |

২. গত ২৩ শে অক্টোবর, ২০১৭ তারিখে আমি স্কুলের নার্স থেকে একটি কল পাই যে একজন শিক্ষার্থী তার বাম চোখে খোঁচা দিয়েছে, চোখটি সামান্য একটু লাল হয়েছে ভয়ের কোনো কারণ নেই সে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে | কলটি পাই স্কুল ছুটি হবার কিছুমুহূর্তু পূর্বে | তখন আমি স্কুলে পৌঁছাবার পূর্বেই স্কুল ছুটি হয়ে যাবে যেহেতু আমি স্কুল থেকে ৫ মাইল দূরে থাকি | নার্স আমাকে বললো সে স্কুল বাসে বাড়ি ফিরতে পারবে কোনো সমস্যা নেই |

৩. আবার ২ রা নভেম্বর, ২০১৭, আমি বিদ্যালয়ের নার্স থেকে আরেকটা কল পাই  ১:১৫ মিনিটে এক ছাত্র তাকে ধাক্কা দিয়েছে এবং সে পড়ে গিয়েছিল এবং তার বাম হাতে সামান্য আঘাত পেয়েছে (প্রকৃতপক্ষে হাত ভেঙে গিয়েছে); এটি খুবই সামান্য; সে ভালো আছে; আমি যেন এটা সম্পর্কে চিন্তিতো না হই । সে শুধু আমাকে তথ্য দিচ্ছে |

তাহীমের পিতা নাজিম উদ্দিন শেখ জানান, আমি নার্সকে জিজ্ঞেস করলাম- সবকিছু ঠিক আছে ?

তিনি উত্তর দিলেন- সবকিছু স্বাভাবিক|

আমি মেইন অফিসের সাথে যোগাযোগ করি এবং মিস টরেসের (অভিভাবক সমন্বয়কারী) সাথে কথা বলতে চাই। ফোনের ওপাশ থেকে কেউ একজন বললেন তিনি ছুটিতে আছেন। তার পর আমি ক্লাস শিক্ষিকা ও প্রিন্সিপালকে চাই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য যেহেতু এটি প্রায়ই ঘটছে | তিনি বললেন যে তিনি আমার মেসেজটি তাদেরকে পৌঁছে দিবেন |

আমি ফোনে ছিলাম; সে নার্সের  রুমে গেলেন এবং আমার ছেলের সাথে কথা বলতে দিলেন | তারপর আবার নার্সের সাথে কথা বললাম; নার্সকে বারবার জিজ্ঞসা করেছিলাম আমার ছেলের অবস্থা, সে বারবারই বললেন ভয়ের কোনো কারণ নেই | আমিও তাকে বিশ্বাস করিছিলাম যেহেতু গত সপ্তাহেও তিনি বলেছিলেন ভয়ের কোনো কারণ নেই | তারপর তিনি একজন শিক্ষিকাকে দিলেন যিনি ঘটনা স্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি আমাকে বললেন ‘একটি বাচ্চা তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় এবং সে পিছন দিকে পড়ে যায়; তার হাতে একটু ব্যাথা লেগেছে |

তাহীমের পিতা নাজিম উদ্দিন শেখ জানান, কিছুক্ষন পরে, আমি আবার স্কুলে ফোন করে জিজ্ঞেস করলাম আমি ক্লাসের শিক্ষক এবং প্রিন্সিপালের কাছ থেকে কখন ফোন আসা করতে পারি? তিনি বলেছিলেন যে তার কোন ধারণা নেই তবে তিনি আমার বার্তা তাদেরকে পৌঁছে দিবেন |

১:৪৬ মিনিটে, আমি কলার আইডি হাইড করা একটি কল পাই। জেনিফার ম্যাককেলি ক্লাস টিচার ওপাশ থেকে বলেন , ‘আমি কি শেখের বাবার সাথে কথা বলতে পারি?’

– আমি বললাম বলছি |

– তিনি খুব উচ্চ স্বরে শুরু করলেন শেখস behavior is horrible today

–  আমি শান্তভাবে জানতে চাইলাম এটাকি আজই প্রথম? অন্য যে কোনদিন তার আচরণ কেমন ছিল?

– অন্যান্য দিন তার আচরণ ভালো ছিল এবং এটা আজই প্রথম |

– আমিন জানতে চাইলাম সে কি করেছে? নাকি সে ব্যাথা পেয়েছে এই জন্য তার আচরণ আজ খারাপ?

– তিনি বললেন সে একজনকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছে?

– আমি বললাম আপনি দেখেছেন? আপনি কি সেখানে উপস্থিতছিলেন?

– তিনি বললেন না আমি ওখানেছিলাম না?

– অন্য শিক্ষক যিনি ওখানেছিলেন সে তো বললেন একজন ছাত্র শেখকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছে|

– তিনি আবার বললেন শেখস behavior is horrible today আমি এই জন্য আপনাকে কল করেছি |

– আমি বললাম আপনিতো নিজ থেকে আমাকে কল করেননি আমি আপনাকে কল করতে বলেছি |

– তিনি বললেন আমি আপনাকে কল করেছি নিজ থেকে এবং আমি আপনাকে আজকে নোট পাঠাবো |

– তিনি কলটি রাখি বলে কেটে দেন আমাকে কিছু বলার সুযোগ দিলেননা |

ফোনে তার আচরণ ছিল খুবই উদ্ধতপূর্ণ |

তাহীমের পিতা নাজিম উদ্দিন শেখ জানান, আমি আবারো স্কুলের মেইন অফিসে কল করি তার আচরণের কথা জানালাম এবং অনুরোধ করলাম যেন প্রিন্সিপাল আমাকে কল করে|

আমার ছেলেটি চিৎকার করে কাঁদছিলো আঘাত পাওয়ার পর থেকেই। সে যখন স্কুলে হতে  ফিরে আসে, তখন মিস জেনিফার ম্যাককলি তাকে বললেন, ‘you are faking , তোর ব্যাগ নে; তোর হাতে কোন ব্যথা নেই; সে বাধ্য করে তাকে তার ভাঙা হাতের উপর ব্যাগ তুলে নিতে | সে তার হাত নাড়াতে সক্ষম ছিল না কিন্তু  তিনি তাকে তার ভাঙা আর্মে (কাঁধের যৌগ) স্কুল ব্যাগ বহন করতে বাধ্য করেন। সেখানে ১৬ টি বই, কিছু খাতা, ফোল্ডার, দুপুরের খাবার (সে তার দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন নি) এবং পানির বোতল যা সত্যিই অনেক ভারী ছিল। সে তার ভাঙা আর্মের (কাঁধের যৌগ) উপর বহন করতে বাধ্য হয় মিস জেনিফার ম্যাককলির ভয়ে । বাস চালক তাকে সাহায্য না করলে সে বাসে উঠতে পারতোনা। বাস ড্রাইভার আমার বাবাকে বলেছিলেন যখন তিনি আমার ছেলেকে বাস থেকে আনতে গিয়েছিলেন ‘আগামীকাল ওকে যেন স্কুলে না পাঠাই; ও সারাক্ষন বাসে কেঁদেছে।

তাহীমের পিতা শেখ জানান, আমার ছেলে বলেছে স্কুল ছুটি হবার আগে থেকে জেনিফার ম্যাককেলি তার উপর অনেক রাগছিল এবং সে তাকে অনেক ভয় পেয়েছে|

সেদিন জেনিফার ম্যাককেলি তার স্কুল ব্যাগে কিছু silly নোট পাঠিয়েছে যে সে ক্লাসে এবং হলওয়েতে কথা বলেছে | আমরা আগে কোনোদিন তার বিরুদ্ধে কোন কমপ্লেইন পাইনি বরং সে প্রায়ই ‘স্টুডেন্ট অফ দ্যা মান্থ’ পুরুস্কার জিতে আসছে |

সে বাসায় আসার সাথে সাথে তার হাতের অবস্থা দেখে আমি ভয় পেয়ে যাই ; সে কোনদিকে হাত ঘোরাতে পারছেনা এবং হাত ফুলে গিয়েছে? আমি সাথে সাথে ৯১১ কল করে তাকে ইমার্জেন্সিতে নিয়ে যাই এবং তারা ফাইন্ড আউট করে যে তার হাত ভেঙ্গে গেছে |

এখন আমার প্রশ্ন: – কিভাবে একজন শিক্ষক ৬ বছরের একটি শিশুকে জোর পূর্বক তার ভাঙা হাতের উপর বাগ নিতে বাধ্য করে যখন শিশুটি অবিরাম কাঁদছে এবং তারা হাত নাড়াতে পারছে না?

আমার ছেলে মিস জেনিফার ম্যাককলির আচরণ দ্বারা কতটা ভীত হয়েছিল যে সে তার হাত নাড়াতে পারছেনা কিন্তু সেই হাতে এত ভারী ব্যাগ বহন করতে বাধ্য ছিলেন?

আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে জেসিফার ম্যাককলি কি চোখ বন্ধ করে রেখেছিলেন, যখন আমার ছেলে তার ডান হাতটি ব্যবহার করে ভেঙ্গে যাওয়া বামহাতের সাহায্যে কাঁধে বাগ তুলে নিয়েছিলেন ? – এটি কি তার জন্য একটি দুর্দান্ত মজা ছিল? আমার ছেলে যখন তার কাঁধে বাগ তুলে নেয়ার দৃশ্য বর্ননা করছিলেন এটা শুনলে যে কারো চেখে পানি এসে যাবে |

যার এতটুকুন দরদ নেই ৬ বছরের একটি বাচ্চার প্রতি তিনি কি করে নিউ ইয়র্ক সিটির নির্বাচিত মেধাবী ছাত্রদের একজন শিক্ষক ?

৪. গতসপ্তাহে আমি মিস জেনিফার ম্যাককলিকে প্রথমবারেরমতো ফোন করেছিলাম কারন আমার ছেলে চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে একই ৫টি বই বাসায় আনছিল এবং বলছিলো টিচার তাকে বই চেঞ্জ করতে বলেনা এই বিষয় আলাপ করতে; তিনি আমায় বলেছিলেন ‘that is your son’s problem. Every week the child has opportunity to shop the books.’ আমি আর কথা না বাড়িয়ে বলেছিলাম বিষয়টি একটু নজর দিতে| সে দিন তিনি আমার ছেলেকে ১৬ টি বই পাঠিয়ে দেন |

একজন ছাত্র কি বই নিলেন বা না নিলেন বা কতটা নিলেন কীভাবে একজন শিক্ষক এর খবর নেন না? কিভাবে তিনি একটি দিনের জন্য ১৬ টি  বই পাঠান ? এগুলিকি তার দায়িত্ব না? কীভাবে তিনি একজন শিক্ষক হয়েছেন, যিনি অভিভাবকের সাথে কথা বলতে জানেন না?

তাহীমের পিতা শেখ জানান, আমি প্রিন্সিপালের সাথে দেখা করার জন্য স্কুলে গিয়েছিলাম পরবর্তী দিন ৩ রা নভেম্বর এই নোটটি দিতে এবং আলোচনা করতে, কিন্তু তিনি আমার সাথে দেখা করেননি। সহকারী প্রিন্সিপাল বলেন যে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন সে আমার সাথে দেখা করতে পারবে না এবং আগামী মঙ্গলবার, ৭ ই নভেম্বর জেনারেল ইলেকশন ডে যেদিন স্কুল ছুটি ২:৪০ মিনিটে যেতে বললেন |

তাহীমের পিতা নাজিম উদ্দিন শেখ আরো জানান, এই ঘটনার পর আমি দক্ষিণ এশিয়ার কমিউনিটির নেতা মাজেদা উদ্দিনকে জানাই যিনি  ‘দক্ষিণ এশীয় ফান্ড ফর শিক্ষা, স্কলারশিপ এবং ট্রেনিং (SAFEST) এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি কুইন্স যুব ও শিক্ষা কমিটির সদস্যও। মাজেদা উদ্দিন কুইন্স বোর্ড অফ এডুকেশন ডিরেক্টর (মনিকা গুটিয়ারেজ) কে এ বিষয়ে বার্তা পাঠান। মনিকা আমাকে স্কুল প্রিন্সিলকে একটি ইমেল চিঠি পাঠানোর অনুরোধ করেছিলন। এবং আমি তাকে একটি ইমেইল পাঠাই মাজেদা এ উদ্দিন, মনিকা গুটিয়ারেজ এবং নিউইয়র্ক সিটি স্কুল জেলা ২৮ (ম্যালেল মুনিজ-সারাদুই) এর সুপারিন্টেন্ডেন্ট কে সিসি করে মনিকা গুটিয়ারেজের পরামর্শ অনুসরণ করে |

ইমেইল প্রেরণের পর প্রিন্সিপাল আমাকে ফোন করে পরামর্শ দেন আমার ছেলেকে রেগুলার ক্লাসে দিতে, কারণ আমার ছেলে মিস জেনিফার ম্যাককলির  ক্লাসে যেতে ভয় পাচ্ছে। বা অন্য কোন স্কুলে যদি আমি কোন গিফটেড এন্ড ট্যালেন্টেড এর  সিট খালি পাই সেখানে নিয়ে যেতে|

তাহীমের পিতা নাজিম উদ্দিন শেখ জানান, আমি ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৭ তারিখে আমার হেলথ ইন্সুরেন্স হারিয়েছি। বর্তমানে আমার কোন হেলথ ইন্সুরেন্স নেই। ইমার্জেন্সি রুম থেকে আমার সন্তানকে যতো দ্রুত সম্ভব orthopedic ডাক্তার দেখতে বলেছেন। আমি এখন পর্যন্ত কোনও orthopedic এর ব্যবস্থা করতে পারি নাই যেহেতু আমার ইন্সুরেন্স নেই |

তাহীমের পিতা নাজিম উদ্দিন শেখ আরো জানান, আমি আমার ছেলেকে রেগুলার ক্লাসে দিতে পারি না কারণ সব বাচ্চা গিফটেড এন্ড ট্যালেন্টেড এ পড়ার সুযোগ পায় না| আমি ন্যায়বিচার চাই; আমি আমার মন থেকে বিশ্বাস করি আমেরিকা ন্যায়বিচারের একটি দেশ। আমি জেনিফার ম্যাককলির অপসারণ চাই| তার ডিস্ক্রিমিনিটরি attitude এর বলীয়ান কেন আমার ছেলেকে হতে হবে| আমি আমার ছেলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথাটা বিবেচনায় নিয়ে আমার ছেলেকে সাহায্য করার জন্য কর্তৃপক্ষের মনোযোগ আকর্ষণ করছি।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.