নিউ ইয়র্ক ছাড়তে বলছে মেলানিয়া ট্রাম্পকে লক্ষাধিক মানুষ…!

200

মিনারা হেলেন, নিউ ইয়র্কঃ  মার্কিন হবু ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে তল্পিতল্পা নিয়ে নিউ ইয়র্ক ছেড়ে হোয়াইট হাউসে চলে যাবার আবেদন করেছেন নিউ ইয়র্কের প্রায় এক লাখ মানুষ। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন,

তিনি ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে নিয়মিত থাকবেন না। এ ছাড়া তাঁর ছেলে ব্যারনের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশটির পরবর্তী ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও ম্যানহাটনের ট্রাম্প টাওয়ারেই থাকতে চান। কিন্তু নিউইয়র্কবাসীর দাবি, মেলানিয়া ট্রাম্প তাঁর তল্পিতল্পা নিয়ে হোয়াইট হাউসেই চলে যাক।

tramp
আজ রোববার ইনডিপেনডেন্ট অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ ইয়র্কের প্রায় এক লাখ মানুষ মেলানিয়ার নিউ ইয়র্ক ছাড়ার পক্ষে একমত হয়ে একটি আবেদনে সই করেছেন। এর কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, মেলানিয়া যদি হোয়াইট হাউসে না গিয়ে নিউ ইয়র্কে থাকেন, তাহলে ফার্স্টলেডি হিসেবে অতিরিক্ত নিরাপত্তার কারণে রোজ তাঁর পেছনে ব্যয় হবে ১০ লাখ ডলার (প্রায় ৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা); যা জনসাধারণের কর থেকে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের স্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত এই অর্থ খরচ না করতে নিউ ইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রিউ কুমো ও সিটি মেয়র বিল ডি ব্লাসিওকে ওই আবেদন পাঠানো হয়েছে।
বলা হয়েছে, নিউ ইয়র্কবাসীর করের ওই অর্থ বরং এলাকার রাস্তা, স্কুল, পরিবহন, স্যানিটেশন ও বেকারদের নতুন চাকরির জন্য ব্যয় করা যেতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর পরিবার বর্তমানে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের ফিফথ অ্যাভিনিউতে অবস্থিত ৫৮ তলাবিশিষ্ট ট্রাম্প টাওয়ারে বাস করছেন।
আবেদনকারীরা সই করার পাশাপাশি লিখেছেন, ‘নিউ ইয়র্কের করদাতারা মেলানিয়ার নিরাপত্তার জন্য দিনে ১০ লাখ ডলার দেবেন না।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘ওই অর্থ করদাতারা নন বরং তাঁদের দুজনের মধ্যে যেকোনো একজনকেই দিতে হবে। করদাতাদের অর্থ রাস্তা, স্কুল, পরিবহন, স্যানিটেশন ও বেকারদের নতুন চাকরির জন্য ব্যয় করা উচিত। শহরের সব মানুষের জন্য ব্যয় করা উচিত। ওই অর্থ কেবল একজনের পেছনে ব্যয় করা যাবে না।’
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক অভিষেক হতে এখনো অপেক্ষা করতে হবে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। তবে মেলানিয়া ট্রাম্প বুঝিয়ে দিয়েছেন যে ছেলের স্কুল শেষ না হওয়া পর্যন্ত মার্বেল পাথরে বাঁধানো মেঝে, ঝাঁ-চকচকে আসবাব, স্ফটিকের ঝাড়বাতি ও প্রাচীন গ্রিসের ঐতিহ্য মেশানো স্তম্ভের সেই ট্রাম্প টাওয়ারেই আপাতত থাকতে চান তিনি।
মেলানিয়া জানিয়েছেন, তিনি নিয়মিত ব্যারনকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া-আসা করেন। এ ছাড়া ব্যারনের স্কুলে ফি হিসেবে বছরে প্রায় ৪০ হাজার ডলার খরচ হয়; যা পরিশোধ করতে মেলানিয়াকেই যেতে হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখপাত্র জেসন মিলার বলেন, ট্রাম্প পরিবার কোথায় থাকবে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট করে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে, যেকোনো মা-বাবা তাঁদের ১০ বছর বয়সী ছেলেকে বছরের মাঝামাঝি সময়ে স্কুল থেকে বের করে আনার ব্যাপারে চিন্তিত হয়ে পড়বেই।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি ট্রাম্পের স্ত্রী ও ছেলে নিউ ইয়র্কেই থাকেন, তাহলে তাঁদের দেখার জন্য ওয়াশিংটন থেকে ট্রাম্প ঘন ঘন নিউইয়র্কে আসবেন। এতে শহরের পুলিশ বাহিনীর দায়িত্ব ও ব্যয় বহুগুণে বেড়ে যাবে।
এদিকে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই ট্রাম্প টাওয়ার ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহরটির কেন্দ্রস্থলে দেখা দিয়েছে একধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। ট্রাম্পের নিরাপত্তা জোরদারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সিক্রেট সার্ভিস ও নিউইয়র্ক পুলিশের তোড়জোড় চলছে। অন্যদিকে ভবনের সামনেই চলছে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.