পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

157

রোমাঞ্চকর টাইব্রেকারে পাকিস্তানকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবলের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র থাকায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। যেখানে বাংলাদেশ গোলরক্ষক মেহেদী হাসানের নৈপুণ্যে ৩-২ গোলের জয় লাল-সবুজের দলের।

এই টুর্নামেন্টে এর আগে ২০১৫ সালে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। তখন অবশ্য টুর্নামেন্টটি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলারদের ছিল। এবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে তাই আসরে শিরোপা পুনরুদ্ধার করল লাল-সবুজের দেশ।

গ্রুপ পর্বে মালদ্বীপকে ৯-০ গোলে উড়িয়ে আসর শুরু করেছিল বাংলাদেশের কিশোররা। এরপর স্বাগতিক নেপালকে ২-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিতে উঠে লাল-সবুজের দল। সেমি ফাইনালে ভারতকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ফাইনালে পা দেয় লাল-সবুজের কিশোররা।

নেপালের আনফা কমপ্লেক্সে শনিবার বাংলাদেশ সময় বেলা পৌনে ৩টায় শুরু হয়েছিল খেলা। দুই দলই অপরাজিত থেকে ফাইনালের লড়াইয়ে নামে। শারীরিক শক্তিতে পাকিস্তানের এই দলটা বেশ এগিয়েই ছিল। বাংলাদেশ কোচ মোস্তফা আনোয়ার পারভেজও পাকিস্তানকেই এগিয়ে রেখেছিল ম্যাচে। তবে শিরোপা জিততে তার শিষ্যরা মরিয়া হয়ে খেলবে সেটিও জানিয়ে দিয়েছিলেন।

মাঠের খেলায় বাংলাদেশ অবশ্য পিছিয়ে ছিল না কোনো কিছুতেই। ম্যাচের ২৫ মিনিটেই গোল করে এগিয়ে যায় তারা। যে গোল ধরে রেখে বিরতিতেও যায় বাংলাদেশ। তবে বিরতির পর মহব উল্লাহ গোল করে পাকিস্তানকে সমতা এনে দেন। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ সমতায় শেষ হলে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে।

টাইব্রেকারের কথা মাথায় রেখেই ৮৯ মিনিটে গোলরক্ষক মেহেদী হাসাকে মাঠে নামান বাংলাদেশ কোচ। সেমি ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে যিনি দুটি টাইব্রেকার ফিরিয়ে দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন। নেপালের বিপক্ষে প্রথম গোলরক্ষক মিতুল মারমা লাল কার্ড দেখায় ভারতের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন মেহেদী।

তবে সেদিন মেহেদী নায়ক হলেও এম্যাচে মিতুল নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে একাদশে ফিরেন। মিতুলের জন্য জায়গা ছেড়ে দিয়ে সাইড বেঞ্চে জায়গা হয় মেহেদীর। তবে টাইব্রেকার নামক পরীক্ষায় মেহেদীকেই ট্রাম কার্ড হিসেবে ব্যবহার করেন বাংলাদেশ কোচ।

মেহেদী সত্যিকারের নায়কের মতোই আবির্ভূত হলেন যেন। টাইব্রেকারে বাংলাদেশের রাজন হাওলাদার প্রথম শটটি বার পোস্টের অনেক উপর দিয়ে মারলে গোল বঞ্চিত হয় দল। তবে পাকিস্তানের জুনাইদ শাহর কিক ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক মেহেদী হাসান। এরপর বাংলাদেশ গোল করে এগিয়ে গেলে পাকিস্তানের আদনানের নেওয়া দ্বিতীয় কিকও ঠেকিয়ে দেন মেহেদী। দুটি করে কিক শেষে ২-১ এ এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ।

নিজেদের তৃতীয় ও চতুর্থ কিক থেকে গোল আদায় করে উভয় দলই। বাংলাদেশ পঞ্চম কিক থেকে গোল পেলেই শিরোপার আনন্দে মাততে পারত। কিন্তু রবিউল আলম পেনাল্টি মিস করলে শেষের নাটক জমে উঠে। কিন্তু গোলরক্ষক মেহেদী পাকিস্তানের মুদাসসেরের নেওয়া কিকও ঠেকিয়ে দিলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার উল্লাসে মাতে লাল-সবুজের দেশ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.