ফ্লোরিডায় বিএনপির প্রতিবাদে মইন ইউ আহমেদের ফোবানা সম্মেলন ত্যাগ!

197
নিউজবিডিইউএস: যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য বিএনপির প্রচন্ড প্রতিবাদের মুখে ফোবানা সম্মেলনস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য বিতর্কিত সাবেক সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ।স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় মায়ামির হায়াত রিজেন্সি হোটেলে তিন দিনব্যাপী ৩১তম ফেডারেশন অব বাংলাদেশি
অ্যাসোশিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা) সম্মেলনে মইন ইউ আহমেদকে আমন্ত্রণের ঘটনা নিয়ে ফোবানা কমিটির মধ্যে বিতর্ক শুরু হলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা প্রতিবাদ জানায়। ফলে নৈশ্যভোজের পরেই তিনি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন। ঐদিন মূলমঞ্চে অতিথির আসনে থাকার কথা থাকলেও পরে সেখানে তাঁকে আর দেখা যায়নি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় মায়ামির হায়াত রিজেন্সি হোটেলে ফোবানা সম্মেলন উদ্বোধনের আগে কালো টাই (ব্লাক টাই) ডিনার নামের এ নৈশ্যভোজে বর্তমান সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. জিয়াউদ্দিন, তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান,  এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ নেতা নিজাম চৌধুরী  সঙ্গে একই টেবিলে বসে প্রকাশ্যেই রাতের খাবার খান। এ মময় ফ্লোরিডা, নিউ ইয়র্কসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আওয়ামীলীগ ও বিএনপির নেতাকর্মিরাও উক্ত নৈশ্যভোজের অনুষ্ঠানে অংশ নেন।ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের বিএনপির সভাপতি ও ফোবানা সম্মেলনের যুগ্ম আহবায়ক এমরানুল হক চাকলাদার ও বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও ফোবানা সম্মেলনের সদস্য সচিব আরিফ আহমেদ আশারাফ বলেন, তিন দিনব্যাপী ৩১তম ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোশিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা) সম্মেলনে মইন ইউ আহমেদকে আমন্ত্রণের ঘটনা নিয়ে আমরা প্রচন্ড প্রতিবাদ জানাই। এ সময় ওয়াশিংটন, ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউ ইয়র্ক বিএনপির নেতারাও তাদের প্রতিবাদে একাত্মতা প্রকাশ করেন।তবে ফ্লোরিডা আওয়ামীলীগের নেতারাই বিতর্কিত সাবেক সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদকে ফোবানা সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য শুক্রবার সন্ধ্যায় কালো টাই (ব্লাক টাই) ডিনার নামের এ নৈশ্যভোজে প্রধান অতিথি সারিতে ডান পাশের একটি চেয়ারের পরই বসেন সাবেক সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ।মন্ত্রীর সামনে বিপরিত সারিতে সোজাসুজি বসেন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. জিয়াউদ্দিন। একই সারিতে রাষ্ট্রদূতের বামে কয়েকটি চেয়ার পরেই এবং মইন আহমেদের মুখোমুখি বসেন এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ নেতা নিজাম চৌধুরী।
পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ভীষন অস্বস্তিবোধ করতে থাকেন। তিনি প্রায় সারাক্ষণই মুখ ফিরিয়ে ছিলেন। তাদের দু’জনের মাঝে একটি চেয়ার শুন্য হয়ে গেলে পরে সেই চেয়ারে এসে বসেন তিনি অনেক্ষণ ধরে কথা বলেন মইন ইউ আহমেদের সঙ্গে। এ বিষয়টি নিয়ে ফোবানা কমিটির মধ্যে বিতর্ক শুরু হলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা প্রতিবাদ জানায়।
সাবেক সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর গত পাঁচ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রেই বসবাস করছেন।ক্যান্সারে আক্রান্ত মইন আহমেদ অন্যান্য অতিথিদের সঙ্গে হাসিমুখে কুশল বিনিময় ছাড়াও অনেকের সঙ্গে ছবিও তোলেন। পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মাঝে অস্বস্তি দেখা গেলেও মইন ইউ আহমেদের মাঝে ছিল হামবড়া ভাব। ফোবানা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকার কথা থাকলেও নৈশ্যভোজের পর মূলমঞ্চে তাঁকে আর দেখা যায়নি।
২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হলেও দৃশ্যত সেনাবাহিনীর প্রধান মইন ছিলেন সরকার পরিচালনায়। ওই সময় বন্দি করা হয়ছিল দুই প্রধান রাজনৈতিক নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে। রাজনীতিবিদদের হয়রানির জন্য ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সমালোচনায় মুখর হয়ে পড়েন রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীরা।
নির্বাচনের পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের কিছু দিন পর অবসরে  যান জেনারেল মইন আহমেদ। সেই থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। একই সময়ের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমেদও রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে।(সুত্র:বাংলা

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.