ভূমিকম্পের সময় করণীয়

846

নিউজবিডিইউএস ডেস্কঃ

 

ভূমিকম্পের সময় প্রথম ঝাঁকুনিতে ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি বা দৌড়াদৌড়ি করা উচিত নয়। বরং ঘরের মধ্যেই একটি নিরাপদ জায়গায় বা ফ্ল্যাটের বাইরে সিঁড়ির নিচে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা উচিত। বাড়ির সবচেয়ে শক্ত অংশ সিঁড়িঘর। ঘরের নিরাপদ জায়গাটি হতে পারে দরজা বরাবর বিম বা পিলারের পাশের জায়গা।

 

ভূমিকম্পের সময় করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত বলেন, প্রথম ঝাঁকুনি থেমে যাওয়ার পর সাধারণত আরও কয়েকটি ঝাঁকুনি দেয়। প্রথম ও দ্বিতীয় ঝাঁকুনির মধ্যে কিছুটা সময় পাওয়া যায়। এ সময় ধীরে-সুস্থে ঘরের বাইরে নিরাপদ জায়গায় নেমে দাঁড়ানো যেতে পারে। বিশেষ করে ঢাকার জন্য ঘর ছেড়ে বাইরে রাস্তায় দাঁড়ালে খুব বেশি ফল পাওয়া যাবে না। কারণ উঁচু ভবনের ভেঙে পড়া অংশ মাথায় বা শরীরের ওপর পড়লে আরও বেশি ক্ষতি হতে পারে।

 

গত সোমবার ভোর পাঁচটা সাত মিনিটে সারা দেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ভারতের মণিপুর রাজ্যের ইম্ফলে। সেখানে রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৭। ঢাকা থেকে উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব ৩৫৩ কিলোমিটার। সিলেট থেকে ১৩০ কিলোমিটার। ভূমিকম্পের কারণে হুড়োহুড়ি করে বের হতে গিয়ে ঢাকা, রাজশাহী ও লালমনিরহাটে তিনজন মারা গেছেন। আতঙ্ক ও হুড়োহুড়িতে সারা দেশে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৭০ জন।

 

আইনুন নিশাত আরও বলেন, লোকজন ভূমিকম্পের সময় হুড়োহুড়ি বা দৌড়াদৌড়ি বেশি করে। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রে বেশি ক্ষতি হয়। কারণ ভূমিকম্প হয় সাধারণত ৩০-৫০ সেকেন্ড। এই সময়ের মধ্যে ভবন থেকে নেমে নিরাপদ জায়গায় যাওয়া কঠিন। এ কারণে ঘরের মধ্যে নিরাপদ জায়গা—যেমন খাট বা টেবিলের নিচে অবস্থান নেওয়া যায়। আলমারি বা জানালার কাছে না থাকাই ভালো। আলমারি পড়ে গিয়ে অথবা জানালার কাচ ভেঙে আহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ঘরের মেইন সুইচ বা গ্যাসের লাইন বন্ধ করা সম্ভব হলে ভালো হয়।

 

vumikompo

 

আইনুন নিশাত বলেন, বাড়ির সবচেয়ে শক্ত অংশ সিঁড়িঘর। কেননা সিঁড়ি কংক্রিট ও রড দিয়ে তৈরি। প্রতিটি ফ্ল্যাটের দরজা খুললেই সিঁড়িঘর থাকে। সেখানে দাঁড়ানো যায়। দরজা বরাবর নিচে বিম বা পিলারের পাশে দাঁড়ানো ভালো। এটি ভেঙে পড়া সহজ হয় না।

 

আইনুন নিশাত আশ্বস্ত করেন, অনেকে ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় গিয়ে দাঁড়ায়। এটি বড় শহর, বিশেষ করে ঢাকার জন্য প্রযোজ্য নয়। কেননা ভবন ভেঙে পড়লে ভবনের সামনের সড়কে দাঁড়ালে কোনো ফল পাওয়া যাবে না। উঁচু ভবনের ভগ্নাংশ মাথায় বা শরীরের ওপর পড়লে ক্ষতির মাত্রা বেড়ে যায়। খোলা জায়গা যেমন—মাঠ বা যেখানে আশপাশে উঁচু ভবন নেই কেবল সেখানে গিয়ে দাঁড়ানো উচিত। তিনি বলেন, ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিক করণীয় নিয়ে ব্যাপক প্রচার করা হয়েছে। এটা আবারও করা উচিত। মানুষ ভূমিকম্পের সময় খুব তাড়াহুড়ো করে।

 

বান্না/জানুয়ারী ৫, ২০১৬

Leave A Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.