মুশফিকের ইতিহাস গড়া দিনে বাংলাদেশের দাপট

386

মিরপুর টেস্টর নাটাইটা আগেরদিনই নিজেদের দখলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে প্রথম দিনের খেলা শেষে শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়ে থাকলেও দ্বিতীয় দিনের উপর ছিল নির্ভরশীলতা। সোমবার দ্বিতীয় দিনটি আসলে শুধুই নিজেদের করেছে টাইগাররা। মুশফিকুর রহীমের ইতিহাস গড়া ডাবল সেঞ্চুরিতে দিনের তিন সেশনেই জিম্বাবুয়েকে রেখেছে কোণঠাসা করে।

দুই ম্যাচ সিরিজের শেষ টেস্টে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে। সোমবার ম্যাচের দ্বিতীয় দিন ৭ উইকেটে ৫২২ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে টাইগাররা। ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে মুশফিকুর রহীম ২১৯ রানে অপরাজিত থাকেন। দ্বিতীয় টেস্ট ফিফটির দেখা পাওয়া মেহেদী হাসান মিরাজ অপরাজিত ছিলেন ৬৮ রানে।M

ইনিংস ঘোষণা করে তৃতীয় সেশনের মাঝামাঝি সময়ে জিম্বাবুয়েকে ব্যাট করার সুযোগ করে দেয় স্বাগতিকরা। মোট ১৮ ওভার ব্যাট করেছে তারা। ২৫ রান যোগ করতে দিনের শেষ ভাগে এসে হারিয়েছে ১ উইকেট। এখনো বাংলাদেশের চেয়ে ৪৯৭ রানে পিছিয়ে জিম্বাবুয়ে।

আগের দিনের ১১১ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া মুশফিক দিন শেষে অপরাজিত থেকে যান। মুশফিকের এটি দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। টেস্ট ইতিহাসে কোনো উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের দুটি ডাবল সেঞ্চুরি এটিই প্রথম।

বাংলাদেশকে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছিলেন মুশফিক, ২০১৩ সালে। এই ডাবল সেঞ্চুরিতেও একটা প্রথম জন্ম দিলেন তিনি। বাংলাদেশের পক্ষে কোনো ব্যাটসম্যানের একাধিক ডাবল সেঞ্চুরিও এটিই প্রথম।

মিরপুর টেস্টের প্রথম দুই দিনে মোট ছয় সেশনের পাঁচটিতেই থাকল বাংলাদেশের আধিপত্ব। জিম্বাবুয়ে থাকল কোণঠাসা হয়ে। রোববার দিনের প্রথম সেশনটা ছিল শুধু জিম্বাবুয়ের। আরো নির্দিষ্ট করে বললে প্রথম ঘন্টাটা। পরের চারটি সেশনই নিজেদের করেছে টাইগাররা। ধীরে ধীরে ম্যাচের ফলও কি লেখা হয়ে যাচ্ছে? মুমিনুল হক আগের দিন বলে গিয়েছিলেন, প্রথম ইনিংসই গড়ে দেবে ম্যাচের ভাগ্য। পাঁচ শতাধিক স্কোর গড়ে বাংলাদেশ অবশ্য নিজেদের এগিয়ে থাকার দাবি করতেই পারে। মুমিনুল যেমন বলেছিলেন এই উইকেটে চারশ-সাড়ে চারশ রানই লড়াই করার মতো।

আগের দিনের ৫ উইকেটে ৩০৩ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। ১১১ রানে অপরাজিত মুশফিকের সঙ্গে শূন্য রানে শুরু করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ষষ্ঠ উইকেটে এই দুজনের জুটি ছিল ৭৩ রানের। তার চেয়েও বড় কথা দিনের প্রথম সেশনটা অক্ষত থেকে পার করেন দুজন। বলতে গেলে দ্বিতীয় দিনের ভালোর শুরুটা সেখানেই।

 দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশ মাহমুদউল্লাহ ও আরিফুলের উইকেট হারায়। তবে নয় নম্বরে ব্যাট করতে নামা মেহেদী হাসান মিরাজ খেললেন টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের সর্বোচ্চ ৬৮ রানের ইনিংস। অস্টম উইকেটে ১৪৪ রানের অবিচ্ছিন জুটি হয়েছে মুশফিক-মিরাজের।

যার বদৌলতে রেকর্ডগড়া ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পেয়ে যান মুশফিক। ৪৮১ বল খেলে অপরাজিত ২১৯ রান করেন মুশফিক। ১৮টি চারের সঙ্গে ১টি ছক্কা হাঁকান তিনি। মিরাজের ১০২ বলের ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ১টি ছক্কা। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটিটি তিনি পূরণ করেন ছক্কা মেরেই।

চা-বিরতির পর একসাথে তিন ল্যান্ডমার্ক পূরণ হয় টাইগারদের। মুশফিক ডাবল সেঞ্চুরি পূরণ করেন। মিরাজ পান ফিফটি। আর বাংলাদেশ পেরোয় করে ৫০০ কোটা । এনিয়ে আটবার টেস্টে বাংলাদেশের ইনিংস পাঁচশ পেরুলো। এদিনের রানটি নিজেদের ইতিহাসে পঞ্চম সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ স্কোরটি ৬৩৮, গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। যেম্যাচে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি উপহার দেন মুশফিক।

জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বাধিক ৫ উইকেট নিয়েছেন জার্ভিস। ১টি করে উইকেট নেন তেন্দাই চাতারা ও ডোনাল্ড তিরিপিানো।

শেষ বিকেলে ব্যাট করতে নামা জিম্বাবুয়ের একটি উইকেট তুলে নেন তাইজুল ইসলাম। ১৪ রান করে ফিরেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। ১০ রান করা ব্রায়ান চারি ও ০ রান নিয়ে নাইটওয়াচ ম্যান তিরিপানো মঙ্গলবার তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করবেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

দ্বিতীয় দিন শেষে

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৫২২/৭ ডিক্লে. (১৬০ ওভার) (লিটন ৯, ইমরুল ০, মুমিনুল ১৬১, মিথুন ০, মুশফিক ২১৯*, মাহমুদউল্লাহ ৩৬, আরিফুল ৪, মিরাজ ৬৮*; জার্ভিস ৫/৭১, চাতারা ১/৩৪, তিরিপানো ১/৬৫, রাজা ০/১১১, উইলিয়ামস ০/৮০, মাভুতা ০/১৩৭, মাসাকাদজা ০/৭)।

জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস: ২৫/১ (১৮ ওভার) (মাসাকাদজা ১৪, চারি ১০*, তিরিপানো ০*; মোস্তাফিজ ০/১১, খালেদ ০/৬, তাইজুল ১/৫, মিরাজ ০/২)।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.