রোহিঙ্গাদের ঘর নির্মাণ এবং নগদ অর্থ প্রদান করলেন “গোয়াইনঘাট প্রবাসী ট্রাস্ট”

403
রশীদ আহমদ, নিউইয়র্ক :  মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীর অত্যাচার, নিপীড়ন-নির্যাতন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে
 আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঘর নির্মাণ  এবং নগদ অর্থ প্রদান করেছে সিলেটের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম উপজেলা গোয়াইনঘাটের প্রবাসীদের প্রিয় সংগঠন “গোয়াইনঘাট প্রবাসী ট্রাস্ট”।FB_IMG_1507205291847
মানবতার কল্যাণে বদ্ধপরিকর স্লোগানকে বুকে ধারণ  করে প্রতিষ্ঠিত “গোয়াইনঘাট প্রবাসী ট্রাস্ট” এর উদ্যোগে গত ২২, ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের এসকল সাহায্য প্রদান সম্পন্ন  করা হয়।
টেকনাফের নোয়াপাড়া, উখিয়া, উক্ষ্যং, বালুখালি, পালংখালিসহ বিভিন্ন এলাকায় রোহিঙ্গাদের জন্য ১৩টি ঘর নির্মাণ,কয়েকটি শৌচাগার এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য তিন শত পরিবারকে নগদ অর্থ প্রদানসহ দুই লক্ষ আটাত্তর হাজার  টাকা  বিতরণ করা হয়।FB_IMG_1507205291847 FB_IMG_1507205298954
গোয়াইনঘাট প্রবাসী ট্রাস্ট এর এ প্রজেক্টের  সকল কর্মকান্ড বাস্তবায়নে ছিলেন ত্রাণ সংগ্রহ ও বিতরণ সংক্রান্ত আহ্বায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ।দেশে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন  ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তোরাব আলী।
গোয়াইনঘাট প্রবাসী ট্রাস্ট এর ত্রাণ সংগ্রহ ও বিতরণ সংক্রান্ত  আহ্বায়ক  কমিটির নেতৃবৃন্দ  জানান, চলমান বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত মানবিক বিপর্যয়ের শিকার রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের দুঃখ-দুর্দশা ও অসহায়ত্বকে স্বল্প পরিসরে হলেও শেয়ার করতে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে গোয়াইনঘাট প্রবাসী ট্রাস্ট।
 তারা আরো বলেন, সংগঠন প্রতিষ্ঠার অল্প  দিন হলেও এই ট্রাস্টের কার্যক্রম বিশ্বব্যাপী প্রশংসনীয় অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। ট্রাস্টের সকল নেতৃবৃন্দের উদার মন-মানসিকতায় সংগঠন সব সময় মানুষের কল্যাণে সাহায্যের হাত সম্প্রসারিত রাখবে।
সংগঠনের প্রথম প্রজেক্ট  বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সাথে থাকা ট্রাস্টের ত্রাণ উপকমিটির সদস্যরা মনে করেন যে,গোয়াইনঘাট প্রবাসী ট্রাস্টি এর এ ধরনের মহতী উদ্যোগ সত্যিই  প্রশংসনীয়। তাৎক্ষণিকভাবে  ট্রাস্ট রোহিঙ্গাদের জন্য যে অবদান রেখেছে, এ জন্য দেশ-বিদেশের সকলের কাছে সিলেটের প্রাচীন ও পর্যটন উপজেলা হিসেবে খ্যাত গোয়াইনঘাটের সম্মান বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।তারা প্রত্যাশা করছেন সংগঠন আগামীতে বিশেষ করে গোয়াইনঘাটের আর্তমানবতার সেবায় অবদান রাখবে। এ জন্য তারা সকলের একনিষ্ট সহযোগিতা কামনা করেন এবং নিঃস্বার্থে ট্রাস্ট পরিচালনার জন্য সবিনয় অনুরোধ  জানান।
গোয়াইনঘাট প্রবাসী ট্রাস্ট এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ প্রেরিত প্রতিনিধি দলের কাছ থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুর্দশা ও অবর্ণনীয় কষ্টের কথা শুনে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সংগঠনের  নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমানে  রোহিঙ্গা মুসলমানদের অধিকাংশ নারী ও শিশু অভিভাবক হারা। বেশিরভাগ শরণার্থীরা শিশুখাদ্য,বিশুদ্ধ পানি, ঔষধ ও স্যানিটেশনের তীব্র সংকটে ভোগছে। এসব নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুহাজিরদের সার্বিক সহযোগিতা করা প্রতিটি মানুষের মানবিক দায়িত্ব। তাই প্রতিটি সামাজিক সংগঠন তাদের নিজ নিজ  অবস্থান থেকে  প্রয়োজনীয় খাদ্য,চিকিৎসা এবং বাসস্থানের সহায়তার পাশাপাশি  বিভিন্ন সেমিনার সিম্পোজিয়াম করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে
  চাপ সৃষ্টির লক্ষে মূলধারায় একত্রিত হয়ে কাজ করা উচিত।
সংগঠনের  নেতৃবৃন্দ  ত্রাণ সংগ্রহ ও বিতরণ সংক্রান্ত  আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা বিলাল উদ্দিন,যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখার আহমেদ হেলাল,সদস্য সচিব মুহাম্মদ আবদুল বাতেন এবং তত্ত্বাবধায়ক তোরাব আলী কে সংগঠনের অবধারিত দায়িত্ব সুষ্ঠু ও সুচারুরূপে বাস্তবায়নের জন্য অশেষ ধন্যবাদ জানান। সাথে সাথে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন ত্রাণ বিতরণ উপ-কমিটির  সদস্য  এম.এ. রহিম, মাস্টার শাহাজাহান, রাসেল আহমদ রেকল, দেলোয়ার হোসেন ইমরানকে।তাদের অক্লান্ত ও নিরলস  পরিশ্রম,সহযোগিতা সংগঠন চিরদিন গভীর ভাবে স্মরণ রাখবে।
গোয়াইনঘাট প্রবাসী ট্রাস্ট এর প্রথম প্রজেক্ট এ যুক্তরাষ্ট্র,যুক্তরাজ্য,সৌদি আরব,ফ্রান্স,লেবানন,আরব আমিরাত,কুয়েত,ইটালী,বাহরাইন,ওমান,কাতার,মালয়েশিয়া, গ্রীস ও স্পেন এর যে সকল সদস্য ভাইরা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে তাদের শ্রমের ঘাম ঝরানো অর্থ রোহিঙ্গাদের জন্য সংগঠনের মারফতে দান করেছেন,তাদের সকলকেও কেন্দ্রীয়  নেতৃবৃন্দ  আন্তরিক মোবারকবাদ জানান।বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লুৎফুর রহমান,আনিসুজ্জামান আনিস ও সৌদি আরব প্রবাসী ফয়সল আহমদ এর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন।
উল্লেখ যে, গোয়াইনঘাটের এক ঝাক কর্মঠ তরুণ, সাহসী ও নিঃস্বার্থ প্রবাসীদের নিয়ে ২০১৭ সালের ১লা সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় গোয়াইনঘাট প্রবাসী ট্রাস্ট নামের সামাজিক সংগঠনটি।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.